myUpchar प्लस+ सदस्य बनें और करें पूरे परिवार के स्वास्थ्य खर्च पर भारी बचत,केवल Rs 99 में -

ডুমুর বা আঞ্জীর হল এর রন্ধনসম্পর্কিত এবং নিরাময়ের গুণাবলীর জন্য সারা বিশ্বব্যাপী সর্বাধিক বিখ্যাত “বহিরাগত” ফলগুলির অন্যতম। এই মিষ্টি এবং মুচমুচে ফলটা শুধুমাত্র এর স্বাদের জন্য বিখ্যাত তাই নয়, অধিকন্তু এর স্বাস্থ্যকর উপযোগিতাগুলির জন্য হাজার হাজার বছর ধরে কর্ষিত এবং ব্যবহৃত হয়ে আসছে। বস্তুত:, মানুষের দ্বারা চাষ করা সর্বাধিক প্রাচীন ফলগুলির অন্যতম হচ্ছে আঞ্জীর। বাইবেলের মত পবিত্র গ্রন্থেও এই ফলের উল্লেখ রয়েছে। আপনি জেনে আশ্চর্য হবেন যে এই ফলের সবচেয়ে পুরানো নমুনাগুলি নব্যপ্রস্তর যুগ (নিওলিথিক এরা) থেকে লভ্য।    

গ্রীকরা (গ্রীস দেশের লোক) একে এত বেশি মূল্যবান বলে ভাবতেন যে তাঁরা এই ফলটাকে রপ্তানি করা অনুমোদন করতেন না এবং যেকোন প্রতিযোগিতার বিজয়ীকে ডুমুর এক সম্মান হিসাবে প্রদান করতেন। রোমান পুরাণ অনুযায়ী শুধু যে রেমাস এবং রোমিউলাস, রোমের প্রতিষ্ঠাতাদের একটা ডুমুর গাছের নীচে একটা স্ত্রী-নেকড়ে  স্তন্যপান করিয়েছিল তাই নয়, লোকে এই ফলের উর্বরতা বর্ধক গুণগুলির কথাও উল্লেখ করে। এই বিস্ময়কর ফল সম্বন্ধে জানতে আরও পড়তে থাকুন। 

আঞ্জীর সম্বন্ধে কিছু মৌলিক তথ্য:

  • উদ্ভিদবিজ্ঞানসম্মত নামফিকাসক্যারিকা
  • জাতি: মোরেসিয়া/মালবেরি ফ্যামিলি
  • প্রচলিত নামগুলি: ডুমুর, সাধারণ ডুমুর, আঞ্জীর/আঞ্জির 
  • সংস্কৃত নাম: আঞ্জির, আঞ্জীরা
  • ব্যবহৃত অংশসমূহ: ফল, পাতা, ছাল, এবং শিকড়
  • দেশীয় অঞ্চল এবং ভৌগোলিক বিস্তৃতি: ডুমুর গাছ এশিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় এবং পশ্চিমা অংশগুলির দেশজ বলে মনে করা হয় যদিও ভারত, চীন, এবং আফ্রিকার মত বিশ্বের বেশির ভাগ গ্রীষ্মমণ্ডলীয় এবং আধা-গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলগুলিতে জন্মায়। তুরস্ক (টার্কি) হচ্ছে বিশ্বের বৃহত্তম ডুমুর উৎপাদক দেশ।    
  • কর্মশক্তি: শীতল

আঞ্জীর গাছ:

ডুমুর হল একটা পর্ণমোচী গাছ (বছরে একবার পাতা ঝরায়) এবং বিশাল বর্গ ফিকাস-এর অন্যতম জাত যার মধ্যে রয়েছে মালবেরি (গাঢ় বেগুনী রঙের জামের মত ফলের গাছ), বট (বরগদ) এবং “পিপুল” (পিপল)।

আপনি কি জানতেন?

ডুমুরগুলো বাস্তবে আসল ফলের বদলে ওলটানো ফুল, সুতরাং, কোনও ডুমুর গাছে লোকে আদপেই ফুল দেখতে পায়না। ডুমুর গাছগুলি জন্মানো খুব সহজ এবং একবার রোপণ করলে সেগুলো প্রচণ্ড দ্রুত চারপাশের গাছপালাকে চেপে দিয়ে ছড়িয়ে পড়ে। বস্তুতঃ, “বুনো লতাপাতার বৈশ্বিক সংকলন গ্রন্থ”-তে এটাকে বিনাশকারী আগাছা বা বুনো লতাপাতার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সাধারণত:, একটা ফিকাস গাছ (ডুমুর গাছ) 20-30 ফুট পর্যন্ত উচ্চতায় বৃদ্ধি পেতে পারে এবং প্রায় সমানভাবে বিস্তৃত হতে পারে। পাতাগুলি চেরা এবং ফিকাস-এর বিভিন্ন বৈচিত্র্যের মধ্যে পার্থক্য করার মাপকাঠির মধ্যে অন্যতম (এক শ্রেণীর গাছ যা এর মধ্যে সামিল কিন্তু ডুমুর এবং মালবেরি অবধি সীমাবদ্ধ নয়)।

  1. আঞ্জীরের স্বাস্থ্য উপযোগিতা - Health benefits of Anjeer in Bengali
  2. আঞ্জীর খাওয়ার পদ্ধতি - How to eat Anjeer in Bengali
  3. প্রতিদিন কতগুলি ডুমুর (আঞ্জীর) খাওয়া যায় - How many figs (Anjeer) to take per day in Bengali
  4. আঞ্জীরের (ডুমুর) পার্শ্ব প্রতিক্রিয়াগুলি - Side effects of Anjeer (Figs) in Bengali

রান্নাঘর এবং রেফ্রিজারেটরে ডুমুর ভালোভাবে এর জায়গা করে নিয়েছে। বস্তুতঃ এই ফলের মিষ্টি মুচমুচেভাব যেকোন মিষ্টান্ন দ্রব্যে আপনি সামিল করতে পারেন, এর পুষ্টিকর এবং স্বাস্থ্য উপযোগিতা এই ফলে আরও অনেককিছু যোগ করে। এই নিবন্ধে, আমরা কিছু পন্থা অন্বেষণ করব যাতে ডুমুরগুলি আপনার স্বাস্থ্যের পক্ষে উপযোগী হয়। 

  • কোষ্ঠবদ্ধতা থেকে মুক্তি দেয়: আঞ্জীরের মধ্যে একটা ভাল পরিমাণ খাদ্যগত আঁশ (তন্তু) থাকে। এই আঁশ আপনার অন্ত্রগুলিতে জমা খাবারে মেশে এবং মলগুলোকে নরম করে, সেগুলোকে শরীর থেকে বার করা সহজতর করে। তাছাড়া, এটা মলত্যাগ নিয়মিত করতে সাহায্য করে, যা কোষ্ঠবদ্ধতার প্রধান কারণগুলির অন্যতম।  
  • ওজন কমাতে সাহায্য করে:  ডুমুর হচ্ছে আঁশ-সমৃদ্ধ কম-ক্যালোরিযুক্ত ফল যা আপনার মোট ক্যালোরির হিসাব বৃদ্ধি না করে আপনাকে একটা অধিকতর সময় জুড়ে পেট ভরার অনুভূতি দেয়। একটা ভাল ওজন কমানোর খাবারে আপনার আর বেশি কি প্রয়োজন? যাই হোক, দুধের সঙ্গে এটা খেলে, বদলে এটা ওজন বৃদ্ধিতে সাহায্য করতে পারে।  
  • চোখের স্বাস্থ্য অক্ষুণ্ণ রাখে: ডুমুরে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন এ থাকে, দৃষ্টিশক্তি অক্ষুণ্ণ রাখতে এবং চোখের দৃষ্টি হারানো প্রতিরোধ করার জন্য দায়ী যা একটা পরিপোষক উপাদান। শুধুমাত্র এটাই নয় উপরন্তু ক্ষয়কারী চোখের ব্যাধিগুলি বর্তমানে যেগুলি চিকিৎসার অসাধ্য সেই বিপদ কমায় বলে মনে করা হয়। আরও বেশি জানার জন্য একজন ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলা সবচেয়ে ভাল।   
  • রাতে ভাল ঘুম হতে দেয়: গবেষণার প্রমাণ নির্দেশ করে যে ডুমুর শরীরে মেলাটোনিন মোচন করতে সাহায্য করে, যা আপনার নিদ্রা-জাগরণ চক্রগুলি নিয়মিত করে এবং অনিদ্রা নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এটা আপনার মস্তিষ্কে সেরোটোনিন মাত্রা বৃদ্ধিও করে। এটা একটা সুখানুভব করার হরমোন যা চাপ এবং উদ্বেগ কমায়, আপনাকে গভীরভাবে ঘুম হওয়াতে সাহায্য করে।
  • অর্শ থেকে সাময়িক রেহাই দেয়: মলত্যাগ নিয়মিত করা এবং কোষ্ঠবদ্ধতা উপশম করার দ্বারা, ডুমুর আপনার হেমোরয়েড টিস্যুগুলির (মলদ্বারের চারপাশের শিরাগুলির স্ফীতি এবং ব্যথা) উপরে বাড়তি চাপ উপশম করতে সাহায্য করে। যেহেতু এটা মলগুলিকে নরম করে এবং সেগুলির বহির্গমন সহজতর করে, এটা পায়ু বা মলদ্বারকে জ্বালায় না, এইভাবে অর্শ প্রতিরোধ করে।  
  • লিভারের (যকৃৎ) ক্রিয়া উন্নত করে: ডুমুরে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং পুষ্টিকর যৌগগুলির একটা ভাণ্ডার থাকে। চিকিৎসার প্রাক পর্যায়ে গবেষণাগুলি ইঙ্গিত দেয় যে এই যৌগগুলি, যকৃতের ক্ষতি প্রতিরোধ করে এবং যকৃতের ক্ষতিকারক পদার্থ নিষ্কাশন ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। যদিও মানুষের উপরে মাত্রা এবং প্রভাবগুলি সুনিশ্চিত করার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন। 
  • উৎকৃষ্ট অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট: অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টগুলি হচ্ছে সেই যৌগ যা ফ্রি র‍্যাডিক্যাল ক্ষতি উল্টোদিকে ঘুরিয়ে দেয় এবং বয়স বাড়া মন্থর করে। একটা প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসাবে, ডুমুর অঙ্গগুলির বয়স-জনিত ক্ষয় ক্রিয়া প্রতিরোধ করতে এবং একই সময়ে সূক্ষ্ণরেখাগুলি এবং কালো দাগের মত অকাল বার্ধক্যের চিহ্নগুলি কমাতে সাহায্য করে
  • রক্তাল্পতাভুক্তদের পক্ষে উপযোগী: ডুমুর লোহার একটা ভাল উৎস। ডুমুরের নিয়মিত ব্যবহার আপনার শরীরে হিমোগ্লোবিন এবং লোহিত রক্তকোষগুলির পরিমাণ বৃদ্ধি করে লোহার অভাবজনিত রক্তাল্পতা প্রতিরোধে কার্যকর হতে দেখা গেছে।  
  • রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে: গবেষণার সমীক্ষাগুলি ডুমুরের হাইপোগ্লাইসেমিক (রক্ত শর্করা কমানো) ক্রিয়া প্রমাণ করে। এটা ইনুসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায় এবং আপনার রক্তপ্রবাহ থেকে বাড়তি চিনির সদ্ব্যবহার করা বৃদ্ধি করে, এইভাবে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।   
  • ত্বকের পক্ষে উপযোগী: ডুমুর আপনার ত্বকের পক্ষে পুষ্টিবিধান এবং প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টগুলির একটা উৎকৃষ্ট উৎস যোগায়। এটা ফ্রি র‍্যাডিক্যাল ক্ষতি কমায় এবং আপনার ত্বককে অধিকতর নমনীয় এবং তারুণ্যযুক্ত দেখাতে সাহায্য করে। এটা পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে যে ডুমুরের কষ (আঠা) লাগানো আঁচিল/জড়ুল অপসারণ করানোয় ক্রায়োজেনিক চিকিৎসার মতো ততটাই ভাল।  
  • চুল পড়া প্রতিরোধ করে: ঠিক আপনার ত্বকের মত, ডুমুর আপনার মাথার খুলির ত্বকেরও পুষ্টিবিধান করে। ভিটামিন ই এবং কে-র একটা উৎকৃষ্ট উৎস হওয়ায়, এটা আপনার চুলের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, চুল পাকা রোধ করে এবং অত্যধিক চুল পড়াও কমায়।
  • সর্দি এবং কাশির প্রতিষেধক: ঐতিহ্যগতভাবে, ডুমুরের রস সর্দি-কাশির পক্ষে একটা চমৎকার প্রতিষেধক হিসাবে পরিচিত। এটা শুধু আপনার ফুসফুস এবং বায়ুপথ থেকে মিউকাস (শ্লেষ্মা) বার করতেই সাহায্য করে তাই নয়, অধিকন্তু এটা আপনার গলার পেশীগুলি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে, সমস্যার কোনরকম ফিরে এসে আরও খারাপ হওয়া ঠেকায়। 
  • রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে: রক্তচাপে ডুমুর ব্যবহারের ইতিবাচক প্রভাব গবেষণাগুলি দেখিয়েছে। আঞ্জীরে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম আছে, এমন একটা খনিজ যা আপনার হার্টে সোডিয়ামের নেতিবাচক প্রভাবের ভারসাম্য রাখতে সাহায্য করে এবং হার্টের ক্রিয়াকলাপ বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।   
  • কিডনির ক্রিয়া উন্নত করে: ডুমুর মূত্রবর্ধক গুণাবলীর অধিকারী। আপনাকে অধিকতর মূত্রত্যাগ করিয়ে, সেগুলি আপনার শরীর থেকে বাড়তি ক্ষতিকারক উপাদানগুলি বার করে দিতে সাহায্য করে, যা কিডনির স্বাস্থ্যের পক্ষে হিতকর।  
  • জ্বর কমায়: ডুমুরের পাতাগুলির এথানল জাতীয় নির্যাস একটা শক্তিশালী জ্বরনিবারক ক্রিয়া প্রদর্শন করে, যা মেডিক্যাল সমীক্ষাগুলি ইঙ্গিত দেয়। 5 ঘন্টার চেয়ে বেশি ক্রিয়াশীল থেকে, বেশির ভাগ বাণিজ্যিক জ্বরনিবারক ওষুধগুলির থেকে এর ক্রিয়া অধিকতর বেশি কার্যকর বলে দাবি করা হয়।   
  • শক্তিশালী হাড়ের জন্য ডুমুর: হাড়ের কাঠামো অটুট রাখার জন্য দায়ী সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির 3টি ডুমুরে থাকে, যা হচ্ছে ক্যালসিয়াম, ফসফরাস এবং ম্যাগনেশিয়াম। ডুমুরের নিয়মিত ব্যবহার আপনার হাড়গুলিকে শক্তিশাআলী রাখে এবং চিড় ধরার বিপদ কমায়।  
  • গর্ভবতী মহিলাদের পক্ষে হিতকর: গর্ভবতী মহিলাদের জন্য ডুমুরের পুষ্টিকর গুণগুলি এটাকে একটা যথাযথ খাদ্যগত সংযোজন হিসাবে উপস্থিত করে। এই ফলে উপস্থিত ভিটামিন বি গর্ভাবস্থার প্রথমদিকের প্রাত:কালীন অসুস্থতা থেকে অব্যাহতি দেয় বলে জ্ঞাত এবং এর ক্যালশিয়াম সঞ্চয় মায়ের হাড়গুলি দুর্বল হওয়া থেকে রক্ষা করে এবং ভ্রূণের বিকাশেও সাহায্য করে।   
  1. কোষ্ঠবদ্ধতার জন্য আঞ্জীর - Anjeer for constipation in Bengali
  2. ওজন কমানোর জন্য আঞ্জীর - Anjeer for weight loss in Bengali
  3. চোখের জন্য আঞ্জীরের উপযোগিতা - Anjeer benefits for eyes in Bengali
  4. ঘুমের জন্য আঞ্জীর - Anjeer fo sleep in Bengali
  5. অর্শের জন্য আঞ্জীর - Anjeer for piles in Bengali
  6. সুস্থ যকৃতের জন্য আঞ্জীর - Anjeer for a healthy liver in Bengali
  7. অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসাবে ডুমুর (আঞ্জীর) - Figs (Anjeer) as antioxidant in Bengali
  8. রক্তাল্পতার জন্য আঞ্জীর - Anjeer for anemia in Bengali
  9. ডায়াবেটিস-এর জন্য আঞ্জীর - Anjeer for diabetes in Bengali
  10. ত্বকের পক্ষে আঞ্জীরের উপযোগিতা - Anjeer benefits for skin in Bengali
  11. চুল পড়ার জন্য আঞ্জীর - Anjeer for hair loss in Bengali
  12. ফুসফুসের সমস্যার জন্য আঞ্জীর - Anjeer for lung problems in Bengali
  13. রক্তচাপের জন্য আঞ্জীর - Anjeer for blood pressure in Bengali
  14. কিডনিগুলির পক্ষে আঞ্জীরের উপযোগিতা - Anjeer benefits for kidneys in Bengali
  15. আঞ্জীর জ্বর কমায় - Anjeer reduces fever in Bengali

কোষ্ঠবদ্ধতার জন্য আঞ্জীর - Anjeer for constipation in Bengali

ডুমুর খাদ্যতালিকাগত ফাইবারের একটা অত্যন্ত সমৃদ্ধ উৎস এবং একটা ফাইবার-সমৃদ্ধ খাদ্যের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হল যে এটা খাবারে ভার বাড়ায় এবং মল নরম করে, এভাবে শরীর থেকে মলগুলো সহজে নিষ্কাশন করায় সাহায্য করে। অতএব, জলখাবারের জন্য এক বাটি ডুমুরের স্যালাড আঁকড়ে ধরুন এবং কোষ্ঠবদ্ধতার দুর্দশা দূরে সরিয়ে রাখুন।

ওজন কমানোর জন্য আঞ্জীর - Anjeer for weight loss in Bengali

আঞ্জীর ফলগুলিতে উচ্চ মাত্রার ফাইবার (আঁশ) অন্ত্রগুলিকে ভারী করে এবং আপনাকে একটা অধিকতর বেশি সময় ধরে পেট ভর্তি হবার একটা অনুভূতি দেয়। এটা আপনার প্রধান খাবারগুলির মধ্যে সময়ের ব্যবধান বাড়াবে এবং আপনাকে কম খাওয়ায় সাহায্য করবে। এছাড়া, ডুমুরে ক্যালোরি কম, সুতরাং, আপনাকে পেট ভরার অনুভূতি করানো সত্ত্বেও, সেগুলি আপনার ক্যালোরির হিসাব বাড়ায় না। আমরা সবাই কি এমন খাবারের স্বপ্ন দেখিনা যা খেতে যেমন ভাল অথচ রাতারাতি আপনার পোশাকগুলি বেশি আঁটসাঁট করায় না। যাই হোক, ডুমুর অতি পুষ্টিকর কিন্তু যখন দুধের সাথে খাওয়া হয় এটা ওজন বাড়াবার দিকে নিয়ে যেতে পারে। ডুমুর খাওয়ার আগে একবার আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা ভাল, বিশেষত: যদি আপনি মাত্রাতিরিক্ত ওজনদার হন।   

 (আরও পড়ুন: ওজন কমাবার জন্য খাদ্য তালিকা)

চোখের জন্য আঞ্জীরের উপযোগিতা - Anjeer benefits for eyes in Bengali

ডুমুর ভিটামিন এ-র একটা উৎকৃষ্ট উৎস হিসাবে পরিচিত যা চোখের দৃষ্টি অক্ষুণ্ণ রাখা এবং চোখ সুস্থ রাখার জন্য দায়ী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিপোষক। নিয়মিত ডুমুর খাওয়া শুধু যে চোখের জন্য ভাল বলে মনে করা হয় তাই নয় উপরন্তু ম্যাকুলার ডিজেনারেশন-এর মত বয়স-জনিত অসুখগুলি যা হচ্ছে চোখের রেটিনার নষ্ট হতে থাকা কোষগুলির কারণে ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি হারানো এবং বর্তমানে নিরাময়ের অসাধ্য, সেটাকে বিলম্বিত করতে সাহায্য করে বলে জানা যায়।  

ঘুমের জন্য আঞ্জীর - Anjeer fo sleep in Bengali

রাতে ঘুমোতে পারেন না? আপনি কি ঘুম না হওয়া থেকে কষ্ট পান (অনিদ্রা)? গবেষণাগুলি দেখায় যে মেলাটোনিন (এক ধরণের হরমোন) আমাদের শরীরের নিদ্রা/জাগরণ ছন্দ বজায় রাখার জন্য দায়ী। এই হরমোনে একটা ভারসাম্যের অভাব শুধুমাত্র নিদ্রা অভ্যাসের ভারসাম্যহীনতার দিকে নিয়ে যায় তাই নয় উপরন্তু উদ্বিগ্ন হওয়ার অনুভূতি এবং সহজে বিরক্ত হওয়ার দিকেও চালিত করতে পারে। অ্যামিনো অ্যাসিড ট্রিপ্টোফান-এর একটা উৎকৃষ্ট উৎস হল ডুমুর যার শরীরে মেলাটোনিন-এর মাত্রা বাড়াবার একটা সরাসরি প্রভাব থাকে। গবেষণাগুলি ইঙ্গিত দেয় যে ডুমুরের নিয়মিত ব্যবহার শরীরে ট্রিপ্টোফান-এর মাত্রা বৃদ্ধি করার দিকে চালিত করে এবং এভাবে শরীরে মেলাটোনিন সময়মত মোচনে প্রবৃত্ত করায় যাকে যথার্থভাবেই বলা হয় “নিদ্রা হরমোন”। অসংখ্য গবেষণা দাবি করে যে ঠিক ঘুমের আগে ট্রিপ্টোফান নেওয়া মেলাটোনিন ব্যালান্স করতে সাহায্য করে এবং এভাবে আপনাকে আরও সহজভাবে ঘুমোতে দেয়।    

তাছাড়া, ডুমুর ম্যাগনেশিয়াম সমৃদ্ধ এবং ডাক্তারদের মতানুসারে, রাতে একটা দীর্ঘতর এবং বেশি ভাল নিদ্রা পেতে ম্যাগনেশিয়াম হচ্ছে অত্যন্ত সহায়ক। যখন আপনি ভাবছেন যে এটাই সব, ট্রিপ্টোফান অপর একটা মেজাজ ভাল করার হরমোন যাকে সেরোটোনিন বলা হয় সেটার একটা উদ্দীপক হিসাবেও কাজ করে যা আপনার মস্তিষ্কে সরাসরি কাজ করে এবং আপনাকে একটা প্রশান্তি এবং সুখকর অনুভূতি দেয়।

এছাড়া, ডুমুর ফল হচ্ছে প্রাকৃতিক শর্করায় সমৃদ্ধ যা ডাক্তারদের দ্বারা একটা মেজাজ ভাল করার যৌগ হিসাবেও বিবেচনা করা হয়। সেরোটোনিন মাত্রার ভাল পরিমাণ উদ্বেগ এবং অবসাদ-এর মত স্নায়বিক সমস্যাগুলি ঠেকানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে জ্ঞাত।

অর্শের জন্য আঞ্জীর - Anjeer for piles in Bengali

অর্শ হচ্ছে একটা দশা যা মলদ্বারের ভিতর অথবা চারপাশে প্রদাহ (জ্বলন) দ্বারা চিহ্নিত যা মলত্যাগের সময় যন্ত্রণা এবং রক্তপাত ঘটায়। এই সমস্যার সঠিক কারণ অস্পষ্ট কিন্তু অত্যন্ত পরিচিত কারণগুলির অন্যতম হল একটা কম ফাইবারযুক্ত খাদ্য এবং বেঠিক মলত্যাগ। ডুমুর ফলে উভয়ের জন্য একটা সমাধান রয়েছে। ডুমুরে উচ্চ মাত্রার ফাইবার মলত্যাগ নিয়মিত করতে এবং মলগুলিকে আরও নরম করতে সাহায্য করে যাতে পায়ুর উপরে পড়া চাপ কমিয়ে এটা মলদ্বারের মাধ্যমে সহজে বার হয়। 

সুস্থ যকৃতের জন্য আঞ্জীর - Anjeer for a healthy liver in Bengali

ডুমুর হচ্ছে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টগুলির একটা উৎকৃষ্ট উৎস যেগুলি শরীরে অক্সিজেনের সাথে রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে (অক্সিডেটিভ ড্যামেজ) কোনও প্রকারের ক্ষতির বিরুদ্ধে শরীরের সবচেয়ে ভাল প্রতিরোধক। এর পরিপোষক গুণগুলির সাথে, ডুমুর যকৃৎ থেকে বিষাক্ত পদার্থগুলি দূর করতে এবং সামগ্রিক যকৃৎ স্বাস্থ্য উন্নত করতে সাহায্য করে। পশুদের উপরে গবেষণাগুলি এই ফলের হেপাটোপ্রোটেক্টিভ (লিভারে ক্ষতি প্রতিরোধ করা) ক্ষমতাগুলি সুনিশ্চিত করেছে কিন্তু মানুষের যকৃতে এর প্রভাবের এখনও কোনও প্রমাণ নেই। অতএব, আপনার যকৃতের উপর ডুমুরের প্রভাব সম্বন্ধে আপনার ডাক্তারের সাথে কথা বলা বাঞ্ছনীয়।   

অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট হিসাবে ডুমুর (আঞ্জীর) - Figs (Anjeer) as antioxidant in Bengali

আপনি যদি সেইসমস্ত ব্যক্তিদের অন্যতম হতে চান যাঁরা বয়সে তরুণ এবং উজ্জ্বল দেখতে চান আপনি হয়তো অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সম্বন্ধে জানেন। এগুলি শুধু শরীর থেকে সমস্ত ফ্রি র‍্যাডিক্যালগুলি (ক্ষতিকর অক্সিজেন যা শরীরের পক্ষে বিষাক্ত) খুঁটে সাফ করতে সাহায্য করে তাই নয় উপরন্তু এগুলি হার্ট এবং লিভারের মত বিভিন্ন অঙ্গগুলির স্বাস্থ্য অক্ষুণ্ণ রাখার পক্ষে অত্যন্ত উপকারী। বিজ্ঞানীরা বলেন যে ডুমুরে থাকা ফেনলস এবং ফ্লেভোনয়েডস (এক ধরণের প্রাকৃতিকভাবে ঘটা রাসায়নিক যৌগ) হল সেই বস্তু যা এটাকে এত চমৎকার অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট-এ পরিণত করে। তাছাড়া, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টগুলি শরীরে অক্সিডেটিভ চাপও কমায় এবং অকাল বার্ধক্য সহ প্রচুর বয়স-জনিত সমস্যা কমায়।     

 (আরও পড়ুন: অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট সমৃদ্ধ খাবার)

রক্তাল্পতার জন্য আঞ্জীর - Anjeer for anemia in Bengali

সাম্প্রতিক গবেষণা অনুসারে, ভারতে 15-50 বৎসর বয়স পরিসীমার মধ্যে প্রায় 51% মহিলা রক্তাল্পতাগ্রস্ত। এই সমস্যার জন্য দায়ী অন্যতম শীর্ষ কারণ হচ্ছে খাদ্যে লোহার অভাব। ডুমুর লোহার একটা সমৃদ্ধশালী উৎস যা হিমোগ্লোবিনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান (রক্তকোষগুলিতে থাকা যে যৌগ শরীরে অক্সিজেন পাঠানোয় সাহায্য করে)। সমীক্ষাগুলি দেখিয়েছে যে ডুমুরের নিয়মিত ব্যবহার রক্তে হিমোগ্লোবিন উপাদানে একটা বৃদ্ধি এবং রক্তকোষগুলির সংখ্যায় একটা সাধারণ বৃদ্ধি আনে। এই ফলে প্রোটিন এবং ভিটামিন বি উপাদানও রক্তে লোহিত রক্তকোষের সংখ্যা বৃদ্ধিতে একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   

 (আরও পড়ুন: রক্তাল্পতার প্রকারভেদ)

ডায়াবেটিস-এর জন্য আঞ্জীর - Anjeer for diabetes in Bengali

সমীক্ষাগুলি ইঙ্গিত দেয় যে ডুমুর ফলের ব্যবহার রক্ত শর্করার মাত্রা কমানোর জন্য সহায়ক। ডুমুরের উপর চালানো একটা সমীক্ষা সবার দৃষ্টিগোচরে এনেছে যে এই ফলের নিয়মিত ব্যবহার গ্লুকোজের প্রতি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়ায়, আর এভাবে রক্ত থেকে আরও বেশি চিনি অপসারণ করে। যাই হোক, এব্যাপারে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা সবচেয়ে ভাল, বিশেষ করে আপনি যদি ডায়াবেটিসে ভোগেন। 

ত্বকের পক্ষে আঞ্জীরের উপযোগিতা - Anjeer benefits for skin in Bengali

সোরিয়াসিস (লাল, চুলকানি, আঁশযুক্ত ত্বকের ক্ষত), ব্রণ, এবং একজিমার মত ত্বকের অসুখগুলির চিকিৎসায় ডুমুর পরম্পরাগত এবং সাধারণ লোকের মুখে মুখে চলে আসা ঔষধ পদ্ধতিতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। স্থানীয়ভাবে যখন লাগানো হয়, ত্বকে সেগুলির একটা পুষ্টিকর এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট প্রভাব থাকে। ইরানে করা একটা গবেষণা ইঙ্গিত দেয় যে আঁচিল/জড়ুলগুলোর চিকিৎসায় ডুমুর ফলের আঠার (কষ) স্থানীয় প্রয়োগ ক্রায়োজেনিক চিকিৎসার মত (একটা অত্যন্ত কম তাপমাত্রায় হিমায়িত করা এবং তারপর সেটাকে কেটে বাদ দেওয়া) প্রায় ততটাই কার্যকর। ক্রিয়ার সঠিক পদ্ধতি অজানা কিন্তু বিজ্ঞানীরা বিশ্বাস করেন যে ডুমুরের আঠার কিছু প্রোটিয়োলিটিক (যা প্রোটিনগুলিকে ভাঙে) কার্যকলাপ আছে যা আঁচিল/জড়ুলগুলোকে এত কার্যকরভাবে দূর করার জন্য দায়ী।         

চুল পড়ার জন্য আঞ্জীর - Anjeer for hair loss in Bengali

ডুমুরের পরিপোষক এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট প্রভাব শুধুমাত্র বেশির ভাগ মাথার খুলির ত্বক সমস্যাগুলির মোকাবিলায় উপযোগী তাই নয় উপরন্তু এটা চুলের পুষ্টিবিধান এবং সেগুলোকে ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণ (কন্ডিশন) করে। ডুমুর বীজের তেল স্থানীয়ভাবে প্রয়োগ করা আপনার চুলগুলিতে ভিটামিন ই এবং ভিটামিন কে-র ডোজ দেওয়া হিসাবে পরিচিত যা সেগুলোর স্বাভাবিক চাকচিক্য অক্ষুণ্ণ রাখা এবং চুল পড়া রোধ করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ফুসফুসের সমস্যার জন্য আঞ্জীর - Anjeer for lung problems in Bengali

কাশির এবং সর্দি বিরুদ্ধে ডুমুরের রস একটা পরিচিত প্রতিষেধক। আয়ুর্বেদে, ডুমুর ফলের ব্যবহার গলার থেকে বাড়তি শ্লেষ্মা (মিউকাস) দূর করে এবং গলার পেশীগুলিতে পরিপোষক যোগায় বলে জ্ঞাত। অতএব, আঞ্জীর শুধুমাত্র আপনাকে গলার ব্যথা থেকে নিরাময় করে তাই নয় উপরন্তু এই সমস্যার আবার ফিরে আসা ঠেকানোর জন্য গলাকে শক্তিশালী করতেও সাহায্য করে। এই গুণগুলি একত্রে ক্রনিক কাশি এবং অন্যান্য একই ধরণের শ্বাসপ্রশ্বাস-সম্পর্কিত সমস্যাগুলির বিরুদ্ধে ডুমুরকে একটা অত্যন্ত শক্তিশালী মাধ্যম করে। 

রক্তচাপের জন্য আঞ্জীর - Anjeer for blood pressure in Bengali

আজকালকার দিনে উচ্চ রক্তচাপ হচ্ছে হয়তো আপনার দেখা সবচেয়ে পরিচিত সমস্যাগুলোর অন্যতম। একদা যা ছিল মধ্য বয়সের একটা সমস্যা, এটা এখন সারা বিশ্ব জুড়ে সব বয়সের কোঠা এবং লিঙ্গের মধ্যে লক্ষণীয়ভাবে বিদ্যমান। যদিও মানসিক চাপ বেশির ভাগ মানুষের ক্ষেত্রে উচ্চ রক্তচাপের কারণ হয়, জীবনশৈলীর সমস্যা, স্থূলতা, এবং খাদ্য রুচিগুলির এর মধ্যে একটা বড় ভূমিকা আছে, লবণাক্ত এবং মশলাদার খাবার নিয়মিত খাওয়া শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বৃদ্ধি করে এভাবে আমাদের শরীরের লবণের মাত্রায় একটা ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করে। যে লবণ শরীরে সোডিয়াম মাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করে তা হল পটাশিয়াম। সমীক্ষাগুলি দেখিয়েছে যে ডুমুরের নিয়মিত ব্যবহার পটাশিয়ামের একটা উৎকৃষ্ট উৎস, রক্তচাপ কমাতে যা অত্যন্ত উপযোগী। ফলটা পটাশিয়াম সমৃদ্ধ যা শরীরে রক্তচাপের মাত্রা স্বাভাবিক পর্যায়ে অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য দায়ী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির অন্যতম।    

কিডনিগুলির পক্ষে আঞ্জীরের উপযোগিতা - Anjeer benefits for kidneys in Bengali

ডুমুর স্বাভাবিকভাবে মূত্রবর্ধক হিসাবে পরিচিত যার অর্থ সেগুলি শরীর থেকে বিষাক্ত পদার্থ পরিস্কার করে এবং কিডনিগুলি থেকে বাড়তি লবণ এবং জল বার করে দেয়, যার ফলে, কিডনি বেশি সুস্থ রাখে এবং শরীরকে বিষাক্ত পদার্থ থেকে মুক্ত রাখে। একটা বিষ-মুক্ত শরীর শুধুমাত্র ভালোভাবে কাজ করে তাই নয় উপরন্তু এটা স্বাভাবিক মাধুর্যপূর্ণভাবেও বয়স বৃদ্ধি করে।   

আঞ্জীর জ্বর কমায় - Anjeer reduces fever in Bengali

আয়ুর্বেদে ডুমুর পাতাগুলি একটা পরিচিত জ্বরনাশক (শরীরের তাপমাত্রা এবং জ্বর কমায়)। সাম্প্রতিক কালে, চিকিৎসাবিদ্যাগত (মেডিক্যাল) গবেষণাগুলি ইঙ্গিত দেয় যে ডুমুর পাতাগুলির একটা এথানল নির্যাসের শক্তিশালী জ্বরনাশক গুণাবলী আছে যা নির্যাসের মাত্রার উপরে নির্ভর করে। কার্যকর প্রভাব প্রায় পাঁচ ঘন্টা ধরে স্থায়ী হতে দেখা গিয়েছে যা সবচেয়ে প্রচলিত বাণিজ্যিক জ্বরনাশক ওষুধগুলির চেয়ে অনেক বেশি ফলপ্রদ।  

(আরও পড়ুন: জ্বরের কারণসমূহ এবং চিকিৎসা)

ডুমুরগুলি কিভাবে ব্যবহার করা হয়?

ডুমুর টাটকাভাবে, ঠিক গাছ থেকে এটা তুলে আনার পরেই, খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু টাটকা ডুমুরের লভ্যতা এবং সংরক্ষণ এত সুলভ নয়। এজন্য, খাবারটার সংরক্ষিত অথবা শুকনো রূপ বেশির ভাগ ব্যবহৃত হয়। 

টাটকা ফলটা যেখানে একটু বেশি রসালো হিসাবে পরিচিত, শুকনো ফলটা হল মিষ্টি, চর্বণযোগ্য এবং এর বীজগুলি একটা স্পষ্ট মুচমুচে ভাব এটাকে দেয় যার জন্য এর প্রতিটা কামড় একে কদরযোগ্য করে। একটা নিরাময়কারী ফলের একটা মুখরোচক ডোজের চেয়ে ভাল আর কি হতে পারে। আপনার দৈনন্দিন রুটিনে যদি আপনি ডুমুর যোগ করার উপায়ের জন্য ভাবেন আপনি জেনে খুশি হবেন যে শুকনো ডুমুর একক ভাবে অথবা স্যালাডে অথবা সকালের সিরিয়াল এবং কর্নফ্লেক্স-এর সাথে খেতে পারেন। এটা দুধ অথবা অন্যান্য ফলের সাথে মিশিয়ে ঘন, সুষম পানীয় এবং মিল্কশেক তৈরি করা যেতে পারে অথবা সেগুলো আপনার হালুয়া, কেক, রুটি, পুডিং, ইত্যাদির মধ্যে মেশানো যেতে পারে। বাজারে প্রচুর মিষ্টান্ন খাবারে এইসমস্ত রূপেও এটা পাওয়া যায় এবং আপনি যদি আপনার বেশি মাত্রার কফির পরিবর্ত হিসাবে কিছু চান, ডুমুর বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত ইনস্ট্যান্ট কফি প্যাক রূপেও পাওয়া যায়। ডুমুরের মিষ্টি স্বাদ মিষ্টান্নগুলিতে সেই স্বাভাবিক মিষ্টত্ব যোগানোর জন্য একে উপযোগী করে। যাই হোক, যদি আপনি বাজার থেকে ডুমুর কেনেন লেবেলগুলি যত্নসহকারে পড়া নিশ্চিত করুন এবং মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ এবং মেশানো প্রিজার্ভেটিভগুলি দেখুন।    

শুকনো ডুমুর না টাটকা ডুমুর?

জলশূন্যতা এবং জলে-দ্রবণীয় কিছু পরিমাণ পরিপোষক বাদে, শুকনো এবং টাটকা ডুমুরের পুষ্টিবিধানকারী গুণাবলীতে বেশি কিছু পার্থক্য নেই। বস্তুত:, ডুমুর শুকনো রূপে খাওয়া আরও ভাল পুষ্টিবিধায়ক সম্পূরক হিসাবে পরিচিত। শুকনো ডুমুরে ফেনোলিক উপাদানগুলি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট গুণগুলি টাটকা ডুমুরের থেকে অনেক বেশি পাওয়া যায়।

টাটকা ডুমুর কেনা:

বাজার থেকে যদি আপনি টাটকা ডুমুর কিনতে যান, কোনও কালশিটে দাগ ছাড়া গোটা ডুমুর দেখুন যেগুলির রং উজ্জ্বল। টাটকা ডুমুরে প্রচুর চিনি এবং ভাল পরিমাণে জল থাকে, সুতরাং কেনার 2 দিনের মধ্যে সেগুলো খাওয়া বাঞ্ছনীয়। যদি আপনি লক্ষ্য করেন কোনও তিক্ত স্বাদ অথবা ছাতা পড়ার মত কোনও বৃদ্ধি দেখেন, ডুমুরগুলো খাবেন না। টাটকা ডুমুর নিরাপদে রাখা খুব গুরুত্বপূর্ণ যেহেতু সেগুলো খুব পলকা এবং সহজেই কালশিটে দাগ পড়ার প্রবণতা থাকে।   

আপনি অপক্ক ডুমুরও কিনতে পারেন এবং আপনি সেগুলি খাবার আগে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় সেগুলিকে স্বাভাবিকভাবে পাকতে দিন। কম জলীয় উপাদানের কারণে, শুকনো ডুমুর অপক্ক ডুমুরের থেকে ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় ঠাণ্ডা এবং শুকনো স্থানে যখন স্টোর করা হয় একটু বেশি সময় ধরে টেঁকসই হয়। যদি আপনি একটা গরম এবং আর্দ্র আবহাওয়ায় বাস করেন, শুকনো ডুমুরগুলি হিমায়িত করে সংরক্ষণ করা বেশি ভাল যেখানে সেগুলি 6-8 মাস পর্যন্ত অক্ষত থাকতে পারবে। যাই হোক, যদি আপনি কোনও বাজে গন্ধ অথবা ছত্রাক বৃদ্ধি লক্ষ্য করেন সেগুলি ফেলে দেওয়াই ভাল।

আদর্শগতভাবে, 3-5টা ডুমুর বা 40 gm প্রতিদিন খুব একটা পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া ছাড়াই খাওয়া যেতে পারে, কিন্তু আপনার শরীরের ধরণ, বয়স, এবং লিঙ্গ অনুযায়ী আদর্শ মাত্রার জন্য আপনার আয়ুর্বেদ ডাক্তারকে দেখানো বাঞ্ছনীয়।

দই এবং ডুমুরের একটা লেপ একটা তাজা এবং প্রাণবন্ত দেখতে ত্বকের জন্য স্থানীয়ভাবে লাগানো যেতে পারে।

  • কিছু মানুষ স্বাভাবিকভাবেই ডুমুরের প্রতি প্রতিক্রিয়াপ্রবণ (অ্যালার্জিক)। ডুমুর এর আঠার কারণে কোষ্ঠবদ্ধতার চিকিৎসায় অত্যন্ত কার্যকর কিন্তু বেশি পরিমাণ ডুমুর খেলে উদরাময় ঘটাতে পারে।
  • যদি আপনি ইতিমধ্যেই কোনও রক্ত পাতলা করার ওষুধ নিতে থাকেন আপনার খাদ্যে যেকোন পরিমাণে ডুমুর গ্রহণ করার আগে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা বাঞ্ছনীয় কারণ ডুমুরে উপস্থিত ভিটামিন কে হল একটা স্বাভাবিক রক্ত তরলকারী এবং ওষুধের প্রভাবের সাথে যোগ হয়ে রক্ত এমনকি আরও পাতলা করতে পারে।  
  • স্থানীয়ভাবে লাগানো হলে ডুমুর পাতা ত্বকের সংবেদনশীলতা বৃদ্ধি করতে পারে। রোদে বেরোবার আগে ত্বকে ডুমুর পাতার লেপ না লাগানোর পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। 
  • ডুমুর শরীরে রক্তে চিনির মাত্রা কমায়, সুতরাং, যদি আপনি একজন ডায়াবেটিসের রোগী হন যিনি ইতিমধ্যেই রক্তে শর্করা কমাবার জন্য ওষুধ নিচ্ছেন অথবা যদি আপনার সাধারণভাবে রক্তে কম গ্লুকোজ মাত্রা থাকে, ডুমুর খাওয়ার আগে আপনার ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলার জন্য বিশেষভাবে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
  • ডুমুর একটা স্বাভাবিক রক্ত তরলকারী সুতরাং, যদি আপনি অস্ত্রোপচার করাতে যাচ্ছেন অথবা ইতিমধ্যেই একটা অস্ত্রোপচার করানো হয়ে গিয়েছে, দু’সপ্তাহের মত ডুমুর না খাওয়াই ভাল। অস্ত্রোপচারের পরবর্তী সময়ে আপনি ডুমুর আবার খাওয়া শুরু করতে পারেন কিনা আপনার ডাক্তারকে জিজ্ঞাসা করুন। যদিও ডুমুর ফল কিডনি থেকে বাড়তি ক্ষতিকারক পদার্থ নিষ্কাশন করে দেওয়ার পক্ষে অত্যন্ত ভাল, এটা অক্সালেট সমৃদ্ধ (এক ধরণের স্বাভাবিকভাবে ঘটা জৈবিক যৌগ)। এই অক্সালেটগুলি শরীরে ক্যালশিয়ামের সাথে যুক্ত থাকে ক্যালশিয়াম অক্সালেট তৈরি করার জন্য যা বেশির ভাগ কিডনি এবং গলব্লাডার পাথরের পিছনে প্রধান দোষী। অতএব, আঞ্জীর খাওয়ার সময় সংযম অবশ্যই মেনে চলতে হবে।
और पढ़ें ...

References

  1. Russo F1, Caporaso N, Paduano A, Sacchi R. Phenolic compounds in fresh and dried figs from Cilento (Italy), by considering breba crop and full crop, in comparison to Turkish and Greek dried figs.. J Food Sci. 2014 Jul;79(7):C1278-84. PMID: 24888706
  2. Sergio D. Paredes, et al. Melatonin and Tryptophan Affect the Activity–Rest Rhythm, Core and Peripheral Temperatures, and Interleukin Levels in the Ringdove: Changes With Age. J Gerontol A Biol Sci Med Sci. 2009 Mar; 64A(3): 340–350. PMID: 19211547
  3. Glenda Lindseth, Brian Helland, Julie Caspers. The Effects of Dietary Tryptophan on Affective Disorders. Arch Psychiatr Nurs. 2015 Apr; 29(2): 102–107. PMID: 25858202
  4. Simon N. Young. How to increase serotonin in the human brain without drugs. J Psychiatry Neurosci. 2007 Nov; 32(6): 394–399. PMID: 18043762
  5. Inam QU1, Ikram H1, Shireen E1, Haleem DJ2. Effects of sugar rich diet on brain serotonin, hyperphagia and anxiety in animal model of both genders.. Pak J Pharm Sci. 2016 May;29(3):757-63. PMID: 27166525
  6. National Institute of Arthritis and Musculoskeletal and Skin Diseases [Internet]. National Institute of Health; Healthy Bones Matter.
ऐप पर पढ़ें