myUpchar प्लस+ सदस्य बनें और करें पूरे परिवार के स्वास्थ्य खर्च पर भारी बचत,केवल Rs 99 में -

আমলা হল একটা সুপরিচিত ঘরোয়া নাম এবং ভারতে প্রাচীনতম আয়ুর্বেদিক প্রতিষেধকগুলির অন্যতম। এই দেশে এমন কোনও ব্যক্তি নেই যিনি এই উজ্জ্বল সবুজ রসালো ফলগুলির সাথে পরিচিত নন যা ইন্ডিয়ান গুজবেরি (আমলকী) নামেও জানা যায় এবং বিশ্ব জুড়ে ব্যবহৃত হয়।

যদি আপনি উদ্ভিদজাত ভেষজ ঔষধির একজন অনুরাগী অথবা ঘরোয়া প্রতিষেধকগুলির একজন ভক্ত হন আপনি হয়তো ইতিমধ্যেই এর হিতকর গুণগুলির অন্তত: একটি যেমন আরোগ্যকর গুণ থেকে উপকৃত হয়েছেন। হাতের নাগালে লভ্য এমন সুলভ এই ধরণের জীবাণু-প্রতিরোধী (অ্যান্টিবায়োটিক) এবং পুষ্টিকর গুণমান এড়ানো কঠিন। আয়ুর্বেদীয় ডাক্তাররা দাবি করেন যে এটা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং পুষ্টিসাধনের সবচেয়ে মূল্যবান উৎস। বস্তুত:, আমালকী নামটার অর্থ হল “মা” এবং “বাঁচিয়ে রাখা” যা এর আরোগ্যকর এবং সযত্নে লালন করার গুণগুলির বিষয়ে নির্দেশ করে।     

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আয়ুর্বেদীয় গ্রন্থগুলির দুটো - চরক সংহিতা এবং সুশ্রুত সংহিতা একে একটা আয়ুবর্ধক ভেষজ হিসাবে উল্লেখ করেছে। শুধুমাত্র এটাই নয়, ভারতীয় পুরাণে এই ফলের একটা বিশেষ স্থান আছে যেখানে একে বলা হয় বিষ্ণুর অশ্রু এবং বৈষ্ণবীয় ঐতিহ্য এবং শৈব ঐতিহ্যে রুদ্রাক্ষ হিসাবে এটা সমান গুরুত্ব ধারণ করে। আমলা গাছ এবং ফল এভাবে ভারতে পূজিত হয়। অনেকের কাছে প্রাচীন ঐতিহ্য এবং যুক্তিগুলি কুসংস্কার মনে হয় কিন্তু আমলার উপকারিতা এবং হিতকর গুণগুলি দেখে আমি আবার ভাবতে বাধ্য হচ্ছি।   

আমলার বিষয়ে কিছু মৌলিক তথ্য:

  • উদ্ভিদবিদ্যাসংক্রান্ত নাম: ফিল্যানথাস এম্বলিকা বা এম্বলিকা অফিসিন্যালিস
  • জাতি: ফিল্যানথাসিয়ে; ইউফরবিয়েসিয়া 
  • প্রচলিত নাম: ইন্ডিয়ান গুজবেরি, আমলা
  • সংস্কৃত নাম: ধাত্রীঅমালকা, আমলকী
  • ব্যবহৃত অংশসমূহ: ফল (টাটকা এবং শুকনো দুটোই), বীজ, ছাল, পাতা, ফুল।
  • দেশীয় অঞ্চল এবং ভৌগোলিক বিস্তৃতিআমলা হচ্ছে ভারতের দেশজ কিন্তু এটা চীন এবং মালয়েশিয়াতেও জন্মায়।
  • কর্মশক্তি: কফ, পিত্ত এবং বাত নামক শরীরের সমগ্র তিন দোষের ভারসাম্য আমলা রাখে বলে ধারণা করা হয়। কিন্তু, আয়ুর্বেদীয় ডাক্তাররা দাবি করেন যে এটার একটা যথার্থ শীতল রাখার ক্রিয়া, খাওয়ার পরে পাকস্থলীতে একটা হালকা ভাবের অনুভূতি এবং শরীরে শুষ্ক প্রভাব থাকে। 
  1. আমলা ভিটামিন সি-র একটা সমৃদ্ধশালী উৎস - Amla is a rich source of Vitamin C in Bengali
  2. আমলা চোখের দৃষ্টি উন্নত করে - Amla improves eyesight in Bengali
  3. ওজন কমানোর জন্য আমলা - Amla for weight loss in Bengali
  4. মলত্যাগ নিয়ন্ত্রিত করার জন্য আমলা - Amla for regulating bowel movement in Bengali
  5. প্রতিরোধ ক্ষমতার জন্য আমলা - Amla for immunity in Bengali
  6. রক্ত শোধনের জন্য আমলা - Amla for blood purification in Bengali
  7. আমলা কোলেস্টেরল কমায় - Amla reduces cholesterol in Bengali
  8. ডায়াবেটিসের জন্য আমলা - Amla for diabetes in Bengali
  9. বয়স-প্রতিরোধ করার জন্য আমলা - Amla for anti-aging in Bengali
  10. কেশের জন্য আমলা - Amla for hair in Bengali
  11. হাড় এবং দাঁতের জন্য আমলা - Amla for bones and teeth in Bengali
  12. গলাব্যথার জন্য আমলা - Amla for sore throat in Bengali
  13. আমলার পুষ্টিকারক গুণ - Nutritional qualities of Amla in Bengali
  14. আমলার স্বাস্থ্য উপকারিতাসমূহ (ইন্ডিয়ান গুজবেরি) - Health benefits of Amla (Indian Gooseberry) in Bengali
  15. আমলা কিভাবে ব্যবহার করতে হবে - How to use Amla in Bengali
  16. আমলার মাত্রা - Amla dosage in Bengali
  17. আমলার পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া - Amla side effects in Bengali

ভিটামিন সি-র সর্বোত্তম প্রাকৃতিক উৎসগুলির অন্যতম হচ্ছে আমলা। বস্তুত: কমলালেবুর থেকে 20-30 গুণ বেশি ভিটামিন সি এতে আছে বলা হয়। এটা বিবেচনা করে যে মানব শরীর নিজে ভিটামিন সি উৎপন্ন করতে পারেনা, শরীরে এই ভিটামিনের চাহিদা পূরণ করার জন্য একটা খাদ্যগত সম্পূরক বস্তু অপরিহার্য। স্কার্ভি, একটা দশা যা শরীরে ভিটামিন সি-এর অভাবের সঙ্গে জড়িত এবং কালো এবং রক্ত পড়া মাড়ির দ্বারা চিহ্নিত, আমলার নিয়মিত ব্যবহারের সাহায্যে দূরীভূত হতে পারে।  

আপনি কি আপনার ঝাপসা দৃষ্টি এবং ভারী পড়াশোনা করার চশমার কারণে ক্লান্ত? আপনার বন্ধুরা যখন আপনাকে কন্ট্যাক্ট লেন্স এবং লেজারের পরামর্শ দেন সেটা কি আপনাকে একটু ভয় পাইয়ে দেয়? আমলা ক্যারোটেনয়েডস এবং ভিটামিন এ-র উত্তম উৎস হিসাবে পরিচিত যে দুটো উত্তম চোখের দৃষ্টির জন্য দায়ী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলির অন্যতম। তাছাড়া, আমলায় উপস্থিত ভিটামিন সি-র আপনার চোখে থাকা রেটিনা কোষগুলির উপরে একটা সতেজকারক প্রভাব থাকে। অতএব, এটা মোটেই আশ্চর্যজনক নয় যে আয়ুর্বেদীয় ডাক্তারদের দ্বারা খারাপ চোখের দৃষ্টি এবং চোখের সমস্যাগুলি এড়ানোর জন্য আমলাকে শীর্ষস্থানীয় প্রতিষেধকগুলির অন্যতম হিসাবে পরামর্শ দেওয়া হয়ে থাকে। চোখের দৃষ্টি উন্নত করায় আমলা রস দিনে দুবার পান করার একটা হিতকর প্রভাব আছে বলে জানা যায়।

পরিপাক প্রণালীর ভুল ক্রিয়াকলাপ হল ওজন বাড়ার সবচেয়ে পরিচিত কারণগুলির অন্যতম। বাড়তি খাবার বার করে দেবার এটা অক্ষমতা কিনা অথবা পর্যাপ্ত পরিমাণ পুষ্টিকর উপাদানগুলো আত্মস্থ করতে সক্ষম না হওয়া, যেকোন ব্যাপার শরীরে অপ্রয়োজনীয় ওজন সঞ্চিত হওয়ার দিকে চালিত করতে পারে। অনেকগুলো উপায় আছে যেভাবে আমলা আপনাকে এই বাড়তি ওজন ঝরানো এবং তুলনায় হালকা এবং ওজন জড়ো না হওয়ার অনুভূতি দিতে সাহায্য করতে পারে। প্রথমত:, এটা একটা মূত্রবর্ধক যার মানে এটা শরীর থেকে বাড়তি জল এবং লবণ দূর করতে আপনাকে সাহায্য করে যা বাড়তি ওজনের একটা বড় অংশ গঠন করে। তারপর, আমলা হচ্ছে আঁশ বা তন্তুর একটা সমৃদ্ধশালী উৎস যা আপনার পেট ভরার অনুভূতি দেয় এবং খাওয়া কমায়। যার ফলে, সামগ্রিক খাদ্যগ্রহণের পরিমাণ কমায় এবং দুটো বড় খাবারের মধ্যে সময়ের ব্যবধান বাড়ায়। সবশেষে, এটা সহজে খাবার হজম করতে এবং রক্তে অধিকতর পুষ্টিকর উপাদান পাঠাতে আপনার পাকস্থলীকে সাহায্য করে, এই কারণে আপনার শরীরের প্রতিদিনকার ক্রিয়াকর্মে আরও বেশি পুষ্টি যোগায়। তাহলে, আপনি কিসের জন্য অপেক্ষা করছেন? এই ফলটাকে আপনার খাদ্যতালিকায় যোগ করুন এবং বেশি ব্যস্ত না হয়ে সমস্ত বাড়তি ওজন থেকে মুক্ত হোন।            

(আরও পড়ুন: ওজন কমানোর খাদ্যতালিকা)

আমলার আঁশ (তন্তু) উপাদান খাদ্যে বেশির ভাগ অংশ যোগান দেয়। পর্যাপ্ত পরিমাণ জলের সাথে যখন নেওয়া হয় এটা মল নরম করে এবং মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণে রাখে। অধিকন্তু, আমলার একটা অন্তর্নিহিত শীতল করার গুণ আছে, সেজন্য এটা পাকস্থলীতে মাঝে মাঝে জ্বলনের সংবেদন থেকে আপনাকে রেহাই দেয়। যেসমস্ত ব্যক্তির শরীরের উপাদান অন্যথায় গরম থাকে তাঁদের পক্ষে এটা বিশেষত: হিতকর।    

আমলার অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট গুণাবলী একে অত্যন্ত ভাল ইমিউনোমডুলেটর (প্রতিরোধ ব্যবস্থার কাজকর্ম উন্নত করা) তৈরি করে। আমলার নিয়মিত ব্যবহার শরীরে রক্তের শ্বেত কোষগুলির সংখ্যা বৃদ্ধি করে (যা শরীরে প্রবেশ করা জীবাণুগুলি ধ্বংস করার জন্য দায়ী) এবং একটা দ্রুততর এবং অধিকতর কার্যকর প্রতিরোধমূলক প্রতিক্রিয়ার দিকে চালিত করে। (আরও পড়ুন: কিভাবে প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করা যায়)

শরীরে কোনও কিছু পাঠানো এবং সঞ্চালন করার জন্য রক্ত হচ্ছে মূল মাধ্যম। শরীরের অঙ্গগুলিতে অক্সিজেন এবং পুষ্টি যোগানো আর শরীর থেকে ক্ষতিকারক পদার্থ নিষ্কাশন করায় সাহায্য করার জন্য এটা দায়ী। জীবনশৈলী, ঔষধ, এবং খাদ্যাভ্যাসের মত ব্যাপারগুলির আমাদের রক্তের বিশুদ্ধতা বজায় রাখায় একটা জোরদার প্রভাব রয়েছে। বহু অস্বাস্থ্যকর খাবার, মানসিক চাপ অথবা ডায়াবেটিসের মত অসুখগুলির রক্তের বিশুদ্ধতায় একটা ক্ষতিকর প্রভাব থাকে। এইসমস্ত সমস্যাগুলির সবকটা এটাকে বিষাক্ত পদার্থে পরিপূর্ণ করে এবং ব্রণ, ত্বকে দাগ অথবা অকাল বার্ধক্যের মত দশা সৃষ্টি করে রক্তের অন্তর্নিহিত পরিশোধন প্রক্রিয়াকে মন্থর করে দেবে। রক্তে বিশাল পরিমাণের বিষাক্ত পদার্থ শরীরের সমস্ত অঙ্গগুলির স্বাভাবিক ক্রিয়াকলাপে বাধাও সৃষ্টি করতে পারে, এভাবে আপনাকে সংক্রমণগুলির প্রতি অধিকতর প্রবণ করতে পারে। আমলা হচ্ছে একটা চমৎকার ক্ষতিকারক পদার্থ অপসারণকারী যার মানে হল রক্তে উপস্থিত অশুদ্ধ বস্তুগুলি পরিস্কার করে দূরীভূত করার এটা একটা অত্যন্ত উৎকৃষ্ট মাধ্যম। একটা মূত্রবর্ধক হিসাবে, শরীর থেকে সমস্ত বাড়তি লবণ সাফ করে শরীরকে অধিকতর পরিস্কার রাখতে এটা সাহায্য করে। তাছাড়া, এর পুষ্টিসাধক প্রভাব অক্সিজেন-বহনকারী লোহিত রক্তকোষগুলি এবং হিমোগ্লোবিনের মাত্রার পরিমাণ বৃদ্ধি করার দিকে চালিত করে যা পুরো শরীর জুড়ে অক্সিজেন সঞ্চালন অধিকতর ভাল করার জন্য হিতকর। আপনি হয়তো ইতিমিধ্যেই জানেন, রক্তে অক্সিজেনের একটা ভাল পরিমাণ শরীরে অনেক কম অশুদ্ধতা থাকার সমান।     

বিভিন্ন গবেষণা দেখিয়েছে যে কাঁচা আমলা অথবা আমলা চূর্ণ খেলে শরীরের কোলেস্টেরল মাত্রায় একটা জোরদার নিবারণমূলক প্রভাব পড়ে। অন্য আর একটা সম্পর্কিত গবেষণায়, দাবি করা হয়েছিল যে শরীরে একটা হ্রাসপ্রাপ্ত কোলেস্টেরল মাত্রা লিভার বা যকৃতে চাপ কমানো এবং মদ্যপান না করা ব্যক্তিদের ফ্যাটি লিভার রোগের সম্ভাবনা কম করার দিকে চালিত করে। আমলায় থাকা ক্রোমিয়ামও ধমনীগুলিতে প্লাক (চর্বি সঞ্চয়) দূর করতে সাহয্য করে, এভাবে ধমনীগত বাধার কারণে হার্ট অ্যাটাক-এর বিপদ ঠেকিয়ে।    

(আরও পড়ুন: উচ্চ কোলেস্টেরল চিকিৎসা)

আমলা রসের নিয়মিত ব্যবহার অধিকতর ইনসুলিন তৈরি করার জন্য শরীরে ইনসুলিন-তৈরি করার কোষগুলিকে চাঙ্গা করে বলে বলা হয়। এই হরমোন, পরিবর্তে, রক্ত থেকে গ্লুকোজ গ্রহণ করে এবং লিভারে সেটা সঞ্চয় করে, যা রক্তে শর্করার মাত্রা সামগ্রিকভাবে কমানোর দিকে নিয়ে যায়। আমলা চূর্ণের রোজকার ব্যবহারের প্রভাবগুলি চর্চা করার জন্য একটা সাম্প্রতিক গবেষণা খুঁজে বার করেছে যে এটা ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তে শর্করা কমাবার মতোই ভাল এবং এটা সবচেয়ে প্রচলিত ডায়াবেটিস-প্রতিরোধী ওষুধগুলির মতোই একটা।

এই পৃথিবীতে কে না স্বাভাবিক মাধুর্যের সাথে বয়স বাড়া চায়? চিরকালের জন্য তরুণ দেখানো বোধ হয় প্রতিটা মানুষের মৃত্যুর আগে ইচ্ছাপূরণ করার তালিকায় থাকে। এটা কি সুবিধাজনক নয় যদি স্বপ্ন দেখার মতোই একটা তরুণতর ত্বক অর্জন করা ততটাই সহজ হয়? ফ্রি র‍্যাডিক্যাল ড্যামেজ বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াগুলির সবচেয়ে বড় কারণ যা আমাদের শরীরে ঘটে এবং দুর্ভাগ্যক্রমে, এটাকে বন্ধ করা যায়না কারণ শরীরের সাধারণ মেটাবোলিক ক্রিয়াগুলির ফলস্বরূপ এটা ঘটে। প্রতিদিনকার চাপ এবং আধুনিক জীবনশৈলী শুধুমাত্র এই সমস্যাকে আরও বাড়ায় তাই নয় উপরন্তু এটাকে এতোটাই খারাপ করে যার মোকাবিলা করা প্রায় অসম্ভব। ফ্রি র‍্যাডিক্যালস-এর বিরুদ্ধে লড়াই করার একমাত্র উপায় হল একটা ভাল মাত্রার অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট এবং ভাল খবর হল এই যে এটা হাতের ঠিক কাছেই রয়েছে। আমলা, একটা পরিপোষক এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ফল হিসাবে শুধুমাত্র যে অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট-এর ক্ষতি কমায় তাই নয় অধিকন্তু এটা ত্বক পুনরায় সতেজ করে এবং এর মধ্যে উপস্থিত ভিটামিনগুলি এবং পুষ্টিকারকগুলির সাহায্যে একে পরিপোষণ করে, যার ফলে, একে (ত্বক) আরও স্বাস্থ্যকর এবং তরুণ করে।

ভারতের মানুষদের মধ্যে আমলার উপযোগ বা ব্যবহার প্রচলিত রয়েছে স্মরণাতীত কাল থেকে। বেশি প্রাকৃতিক রঙে রঞ্জিত এবং উজ্জ্বলতর চুল লাভ করায় আমলার উপযোগিতা অধিকাংশ মানুষের কাছে লুকানো নেই। আয়ুর্বেদীয় ডাক্তাররা চুল পড়া রোধ করার জন্য আমলা এবং নারকেল তেলের একটা মিশ্রণ ব্যবহারের পরামর্শ দেন।

আমলার নিয়মিত ব্যবহার বা আমলা তেলের সরাসরি ব্যবহার চুলের গ্রন্থিকোষগুলিকে পরিপোষণ করে বলে বিদিত যার ফলে চুলের আরও স্বাস্থ্যকর এবং উজ্জ্বলতর বৃদ্ধি করায় সাহায্য করে। আর এর অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট গুণাবলী চুলের ক্ষতির লক্ষণগুলি দূর করতে সাহায্য করে এবং চুল পড়া বন্ধ করে। আমলা তেল পুরুষদের ক্ষেত্রে টাকভাবের জন্য একটা প্রমাণিত প্রতিষেধক। একটা সাম্প্রতিক গবেষণা দাবি করে যে 5 আলফা রিডাক্টেস যা পুরুষদের চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ, আমলা তেল তার একটা প্রবলভাবে কার্যকর প্রতিরোধক।    

আমলায় অস্টিওক্লাস্ট-এর একটা প্রতিরোধী প্রভাব আছে বলে বিদিত, আমাদের শরীরে হাড়ের ক্ষয়ের জন্য এই কোষগুলি দায়ী। আমলা রস অথবা চূর্ণের ব্যবহার এইসমস্ত কোষগুলির ক্রিয়া মন্থর করে বলে বিশ্বাস। সেজন্য, হাড়গুলি একটা দীর্ঘ সময় ধরে বেশি শক্তিশালী থাকে। তাছাড়া, আমলা শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ বৃদ্ধি করে এবং ক্যালসিয়াম হচ্ছে সেই খনিজ যা আমাদের হাড় এবং দাঁত উভয়ের আরও বেশি আঁটোভাব এবং শক্তি যোগায়। সুতরাং, আপনার খাদ্যতালিকায় আমলা অন্তর্ভুক্ত করা শুধুমাত্র হাড়গুলির বয়স-জনিত ভঙ্গুরতা বন্ধ করবে তাই নয় উপরন্তু এটা সেগুলোকে আরও শক্তিশালী করতেও সাহায্য করে।   

আমলা অম্ল স্বাদের ভেষজ কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে আয়ুর্বেদীয় ডাক্তাররা গলাব্যথার চিকিৎসার জন্য আদার সাথে মিশিয়ে আমলা রস ব্যবহারের পরামর্শ দেন। আমলায় উপস্থিত ভিটামিন সি হচ্ছে অত্যন্ত চমৎকার একটা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট যা গলাব্যথার জন্য দায়ী বেশির ভাগ জীবাণুগুলিকে ধ্বংস করার জন্য শরীরের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। এর পরিপোষক গুণগুলি গলার পেশীগুলি শক্তিশালী করতে সাহায্য করে।     

  • আমলা ভিটামিন সি-এর একটা অত্যন্ত উৎকৃষ্ট উৎস, প্রকৃতপক্ষে, এটা হচ্ছে এই ভিটামিনের সর্বোত্তম প্রাকৃতিক উৎসগুলির অন্যতম এবং সবচেয়ে ভাল ব্যাপার হল, যে আমলায় থাকা কষায় রস (এক ধরণের প্রাকৃতিক যৌগিক) ফলটা রান্না করা বা প্রক্রিয়াকরণের পরেও এর সব ভিটামিন সি অপরিবর্তনীয় রাখে।  
  • আমলা ফল ক্যালসিয়াম, ফসফরাস, এবং লোহার মত খনিজগুলির একটা উৎকৃষ্ট উৎস যা সুস্থ হাড় এবং দাঁত বজায় রাখতে সাহায্য করে। 
  • আমলায় উপস্থিত ক্যারোটিন এবং ভিটামিন এ চোখের দৃষ্টি এবং কেশ বৃদ্ধির পক্ষে অত্যন্ত উপকারী।
  • এছাড়া এটায় ভিটামিন ই থাকে যার বার্ধক্য-প্রতিরোধী এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট গুণগুলো এবং ভিটামিন বি কমপ্লেক্স আছে যা শরীরের বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপে অপরিহার্য।  
  • আমাদের গ্যাস্ট্রোইন্টেস্টিনাল ট্র্যাক্ট-এর (পাকস্থলী এবং অন্ত্র সম্পর্কিত নালী) সুস্থতা এবং সঠিক ক্রিয়াকলাপের জন্য আমলার উচ্চ তন্তু বস্তু একটা চমৎকার কার্যকর শক্তি।

আমলা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট-এর সর্বোত্তম উদ্ভিজ্জ উৎসগুলোর অন্যতম এবং এর ক্ষতিকারক পদার্থ নিষ্কাশন করার গুণগুলি একে একটা নিখুঁত লিভার টনিক হিসাবে উপস্থিত করে। আমলার যেকোন আকারে নিয়মিত ব্যবহার শরীরের সমস্ত বিষাক্ত পদার্থ যে শুধুমাত্র বার করে দেয় তাই নয় উপরন্তু এর পুনর্যৌবন লাভ করা এবং পুষ্টিসাধন গুণগুলো শরীরের অনেক প্রত্যঙ্গকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করে, যেগুলির মধ্যে আছে প্লীহার দ্বারা লোহিত রক্তকোষসমূহ এবং হিমোগ্লোবিন তৈরি, হৃৎপিণ্ড এবং প্রতিরোধ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা। কিন্তু সেটাই সব নয়। আমলার মধ্যে অনেক খনিজ এবং ভিটামিন উপস্থিত আছে যা দেহের সমগ্র ক্রিয়াকলাপের জন্য একে অত্যন্ত কার্যকর করে। আমলার স্বাস্থ্য উপকারিতাগুলির কয়েকটি বিশ্লেষণ করা যাক।   

  • ভিটামিন সি-র সমৃদ্ধশালী উৎস: ভিটামিন সি-র সমৃদ্ধতম উৎসগুলির অন্যতম হল আমলা। যেহেতু আমাদের শরীর এই ভিটামিন তৈরি করতে পারেনা, একটা বাইরের উৎস থেকে এটা পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত ভিটামিন সি স্কার্ভির মত অভাবজনিত রোগগুলি যা মাড়ির কালো হওয়া এবং রক্ত পড়া ঘটায় সেসমস্ত থেকে শরীরকে রক্ষা করে। 
  • চোখের দৃষ্টি উন্নত করে: আমলায় ভিটামিন এ এবং বিটা ক্যারোটেনয়েডস আছে, এই উভয় পুষ্টিসাধক চোখের স্বাস্থ্য বজায় রাখা এবং দৃষ্টি অক্ষুণ্ণ রাখার জন্য দায়ী। আমলায় উপস্থিত ভিটামিন সি চোখের পেশীগুলি শক্তিশালী করতে এবং বয়স-জনিত চোখের অসুখগুলি দূরে রাখায় সাহায্য করে।
  • ওজন কমানোয় সাহায্য করে: আমলা একটা চমৎকার ওজন কমানোয় সাহায্যকারী হতে পারে। এটা হজম উন্নত করে এবং আপনার দেহ থেকে বিষাক্ত বর্জ্য অপসারণ উন্নত করে, একটা উন্নততর মেটাবোলিজম নিশ্চিত করে। আমলা ফলের আঁশ বা তন্তু আপনাকে বেশি খাওয়া থেকে রক্ষা করে এবং আপনার দেহে জমা চর্বি গলিয়ে, কোলেস্টেরল অপসারণ বাড়ায়।      
  • মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণ করায়: আমলায় একটা ভালো পরিমাণ আঁশ (তন্তু) আছে যা খাদ্য অন্ত্রগুলির মধ্যে স্তুপ করে এবং মলত্যাগ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এছাড়া, শরীরে এর শীতলকারী প্রভাব সেই সমস্ত ব্যক্তি যাঁদের দেহের গঠনকারী উপাদানগুলি গরম তাঁদের পাকস্থলীতে মাঝে মাঝে হওয়া জ্বলনের সংবেদন দূর করে।  
  • প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করে: আপনি কি জানতেন যে আমলা আপনার প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত করতে পারে? এটাতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট আছে, যা বিভিন্ন প্রতিরোধ ব্যবস্থার কোষগুলি সতেজ রাখায় কার্যকর বলে বিজ্ঞানসম্মতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।  
  • রক্ত শোধন করে: আমলা হচ্ছে একটা প্রমাণিত ক্ষতিকারক পদার্থ নিষ্কাশনকারী মাধ্যম। এটা আপনার রক্ত থেকে অশুদ্ধ পদার্থ এবং অতিরিক্ত ফ্রি র‍্যাডিক্যালস অপসারণ করে এবং একই সময়ে আপনার রক্তকোষগুলিতে পুষ্টিসাধন যোগায়। একসাথে, এইসমস্ত গুণগুলো রক্তকোষগুলির অক্সিজেন বহন করার ক্ষমতা বাড়ায়, যা উন্নত স্বাস্থ্যের দিকে চালিত করে।    
  • কোলেস্টেরল মাত্রা কমায়: গবেষণা নির্দেশ করে যে আমলা ব্যবহার শরীরে কোলেস্টেরল সঞ্চয় কমায় এবং লিভার বা যকৃতের ক্রিয়া উন্নত করে, যার ফলে ফ্যাটি লিভার (লিভারে অতিরিক্ত চর্বি জমা) রোগ হওয়ায় বাধা দেয়। এছাড়া, এতে আছে খনিজ ক্রোমিয়াম যা ধমনীগুলিতে প্লাক জমায় বাধা দেয় এবং হার্ট অ্যাটাকের বিপদ কমায়।  
  • বার্ধক্য প্রতিরোধ করে: ফ্রি র‍্যাডিক্যাল ক্ষতিসাধন, যা অকাল বার্ধক্যের প্রধান কারণগুলির অন্যতম, তার বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আমলায় অ্যান্টিঅক্সিড্যান্টগুলির একটা অস্ত্র রয়েছে। আমলা রসের নিয়মিত ব্যবহার বয়স বাড়ার প্রক্রিয়াকে মন্থর করে দেয় এবং ত্বকের কুঞ্চন এবং সূক্ষ্ণ রেখাগুলিকে দূরে রাখে বলে দাবি করা হয়।     
  • দীর্ঘতর এবং উজ্জ্বলতর কেশ যোগায়: আয়ুর্বেদীয় ডাক্তাররা বলেন যে আমলা এবং নারকেল তেলের লেপ আপনার চুলের পুষ্টিসাধন করে এবং চুল পড়া প্রতিরোধ করে আর আমলা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট অকালে চুল পাকায় বাধা দেয়। এটাও প্রমাণিত হয়েছে যে আমলায় উপস্থিত 5 আলফা রিডাক্টেস চুল পড়া এবং পুরুষদের টাক পড়া প্রতিরোধ করে।  
  • হাড় এবং দাঁত সুস্থ রাখে: আপনার হাড়ের পক্ষে আমলার দ্বৈত উপকারিতা আছে। গবেষণার পত্রাদি ইঙ্গিত দেয় যে এটা আপনার হাড়ে ক্যালসিয়াম যোগান দেয়, যা হাড়ের কাঠামো পোষণ করার জন্য অপরিহার্য এবং একই সময়ে অস্টিওক্লাস্ট (হাড় ভেঙে যাওয়া) ক্রিয়াকলাপ প্রতিরোধ করে হাড়ের ক্ষয়ে বাধা দেয়। 
  • গলাব্যথা উপশম করে: আমলা, যখন পরম্পরাগতভাবে আদার সাথে নেওয়া হয় গলাব্যথার জন্য একটা প্রতিষেধক হিসাবে ব্যবহার করা হয়। এটা বিশ্বাস করা হয় যে এটা হয় এই ফলের প্রতিরোধ ক্ষমতা চাঙ্গা করার এবং পরিপোষক গুণাবলীর কারণে, যা সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে এবং গলার পেশীগুলি শক্তিশালী করে, জীবাণু বিতাড়ন এবং দ্রুত আরোগ্যলাভ সহজতর করে।    

শরৎকালে আমলা গাছ ফল দেয়। অপক্ক আমলাগুলো সবজে হলুদ পাকলে পরে যা স্পষ্ট বাদামী-সোনালী রঙে পরিবর্তিত হয়। ফলটা কাঁচা খাওয়া যায় কিন্তু আমলাগুলোর স্বাদ টক যা সবার জিহ্বায় ভাল নাও লাগতে পারে। সৌভাগ্যক্রমে, আমলাজাত দ্রব্যের রকমারি প্রকার বাজারে বাণিজ্যিকভাবে পাওয়া যায়, কিন্তু যেকোন পণ্য কেনার সময় তার গুণাগুণ পরখ করার জন্য আপনাকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কারণ সেগুলোর কোন কোনটায় বাড়তি চিনি এবং সুগন্ধের বেশি পরিমাণ থাকে যা উপকারের চেয়ে ক্ষতি বেশি করতে পারে। আমলার সবচেয়ে প্রচলিত প্রকারগুলো যা আপনি কিনতে পারেন তার মধ্যে রয়েছে টাটকা এবং শুকনো ফল, আমলা মোরব্বা, মিছরি, চূর্ণ, ট্যাবলেট এবং ক্যাপসুল, আমলা রস, চাটনি, জ্যাম, এবং তেল। এছাড়া ত্রিফলা এবং চ্যবনপ্রাশে (অত্যন্ত প্রচলিত দুটো আয়ুর্বেদীয় প্রণালী) এটা অন্যতম প্রধান উপকরণ। যাই হোক, যদি আপনার রান্নার কোনও সহজাত আগ্রহ থাকে এবং প্রাকৃতিক ঘরোয়া টোটকা পছন্দ করেন, আপনি ঘরে বসে শুরু থেকে কিছু প্রণালী রান্না করতে পারেন। সেটাই কি ঠিক নয়!      

আমলা ব্যবহারের তিনটি সহজ এবং হিতকর উপায়ের দিকে দেখা যাক:

  • আমলা রস - 
    আমলা রস তৈরি করার জন্য, কয়েকটা গুজবেরি থেকে বীজগুলো আলাদা করুন এবং সেগুলো একটা মিক্সারে পিষে একটা মিহি লেই বানান। মিক্সারে খানিকটা জল মেশান (আপনার স্বাদ এবং প্রয়োজনীয় ঘনত্ব অনুযায়ী) এবং আবার পিষে নিন। আপনি স্বাদের জন্য কালো গোলমরিচ, আদা বা ধনেপাতাও মেশাতে পারেন। শেফরা বলেন যে ফ্রিজে টাটকা আমলা রস কোনও বাড়তি সংরক্ষণকারী বস্তু (প্রিজারভেটিভস) ছাড়াই প্রায় এক সপ্তাহ পর্যন্ত থাকে। কিন্তু তাজাভাব সুনিশ্চিত করার জন্য গন্ধ বা কোনও আঠালো ভাবের বৃদ্ধি পরীক্ষা করার জন্য আপনাকে পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। একটা পরিচিত প্রিজারভেটিভ সোডিয়াম ল্যাক্টেট রস বা জুসকে এক মাস পর্যন্ত সংরক্ষণ করার জন্য নিরাপদে ব্যবহার করা করা যেতে পারে।      
     
  • আমলা চাটনি -
    আমলা রস তৈরি করার মত আমলা চাটনি তৈরি করা প্রায় একই রকম। আমলাগুলো থেকে বীজগুলো বার করার পর, আপনি সেগুলোকে পেষকযন্ত্রে (গ্রাইন্ডার) রাখুন এবং আদা, স্বাদমত লবণ এবং ধনেপাতা এর মধ্যে মেশান। লেই তৈরি করার জন্য এটাকে পিষুন এবং এটাকে একটা বয়ামে রাখুন। এটা সংরক্ষিত রাখার জন্য খানিকটা তেল দিয়ে এটা লিপ্ত করুন এবং ফ্রিজে রাখুন। ফ্রিজে আমলা চাটনি প্রায় এক মাসের মত অক্ষত থাকে।     
     
  • আমলা তেল -
    গোটা আমলা নারকেল তেলে ভর্তি একটা পাত্রে/বয়ামে রেখে এবং তারপর প্রায় এক সপ্তাহ মত এটাকে রোদে বসতে দিয়ে আমলা তেল বাড়িতে অনায়াসে তৈরি করা যেতে পারে। পর্যাপ্ত আমলা রাখুন যাতে এটা বয়াম প্রায় ভর্তি করে আর তেল যেন কানায় কানায় এটাকে পূর্ণ করে। 4-5 দিন পর বয়ামটাকে ঝাঁকান এবং কোনও আঠালো ভাব বা ছত্রাক বৃদ্ধি হয়েছে কিনা পরখ করুন। তেল ভরার আগে বয়াম ধুয়ে শুকনো করুন। একই ভাবে, আমলার গায়ের কোনও ধুলো অথবা জীবাণু দূর করার জন্য আমলা সঠিকভাবে ধোয়া এবং শুকানো উচিত। আমলা চূর্ণ এবং শুকনো আমলা উভয়ই তেল প্রস্তুত করার জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে। কাঙ্ক্ষিত সময়ের পর, আমলা আলাদা করার জন্য আপনি চাপ প্রয়োগ করে তেল ছেঁকে নিতে পারেন অথবা উপর থেকে তেল ব্যবহার করতে পারেন। যত সময় অবধি ফলটা এর পুষ্টিকর উপাদান এবং তেল ছাড়তে থাকবে তেল জোরদার হতে থাকবে।    

অন্যথায়, আপনি নারকেল তেলে আমলা রস মেশাতে পারেন এবং কম আঁচে এটাকে কয়েক মিনিট গরম করে দুটো তরল মিশতে দিন। এক মিনিট বা ওরকম কিছু সময় পর গরম তাপ থেকে এটা সরিয়ে নিন এবং ত্বক অথবা মাথার খুলির চামড়ায় এটা সরাসরি লাগান।   

আমলা ফল যেমন কাঁচা খাওয়া যেতে পারে, আমলা চূর্ণ হচ্ছে আমলা খাওয়ার সবচেয়ে প্রচলিত এবং সহজতম উপায়। সাধারণত:, খালি পেটে রোজ এক টেবিল চামচ মাত্রা নিতে বলা হচ্ছে। কোনও কোনও আয়ুর্বেদীয় ডাক্তার পরিবর্তে প্রতিটি বড় খাবারের পর আমলা খাওয়ার পরামর্শ দেন। বলা হয় যে খাবারের পরে আমলা খেলে খাবার আরও ভাল হজম করতে সাহায্য করে। গলাব্যথা উপশম করার জন্য আমলা মধুর সাথে অথবা আদার সাথে মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে। আমলা তেল চুল বৃদ্ধি এবং চুলের অকালপক্কতা রোধ করার জন্য অত্যন্ত হিতকর। চুলের জন্য আরও বেশি উপযোগী করার জন্য আমলা তেল শিকাকাই অথবা অ্যামন্ড তেলের সাথে মেশানো যেতে পারে।    

যাই হোক, ব্যক্তির বয়স, লিঙ্গ এবং স্বাস্থ্যের অবস্থাগুলির উপর ভিত্তি করে আমলার সঠিক মাত্রা বিভিন্ন ধরণের হয়। পরিবেশগত উপাদানগুলিও এই ফলের মাত্রা এবং ব্যবহারে একটা ভূমিকা পালন করে। সুতরাং, আমলা একটা প্রতিষেধক হিসাবে গ্রহণ করার আগে একজন আয়ুর্বেদ ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা বাঞ্ছনীয়।

  • বেশি পরিমাণে আমলা ব্যবহার এটায় সাহায্য করা সত্ত্বেও কোষ্ঠবদ্ধতা বাড়াতে পারে এবং পর্যাপ্ত জল পান না করলে পাকস্থলীর স্বাস্থ্যে এমনকি আরও বেশি বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে কারণ জলের অভাব আমলায় থাকা আঁশকে শক্ত করবে এবং অন্ত্রগুলিকে রুদ্ধ করবে।   
  • ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবারগুলিতে যদি আপনার ইতিমধ্যেই একটা সংবেদনশীলতা থাকে আমলা খাওয়া যুক্তিযুক্ত নয়।
  • যদি আপনার স্বভাবতঃ রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কম থাকে অথবা ডায়াবেটিসের জন্য প্রেসক্রাইব করা ওষুধের আওতায় থাকেন, যে কোনও আকারে আমলা ব্যবহারের আগে আপনার ডাক্তারের সাথে পরামর্শ করা ভাল যেহেতু এটা একটা প্রাকৃতিক হাইপোগ্লাইসেমিক (রক্তে শর্করার মাত্রা কমায়) এবং ওষুধের ক্রিয়ার উপরে বাধা সৃষ্টি করতে পারে।     
  • স্বাভাবিকের চেয়ে কম জল গ্রহণ করার সাথে নিয়মিত আমলার ব্যবহার আপনার স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে কারণ আমলা একটা স্বাভাবিক মূত্রবর্ধক যার মানে হল এটা আপনার শরীরকে দ্রুতভাবে জল বিয়োজিত করতে পারে। সুতরাং, যদি আপনি আপনার খাদ্যতালিকায় আমলা যোগ করেন আপনার শরীরকে ভালোভাবে জলযুক্ত রাখা বাঞ্ছনীয়।
  • এতদিন পর্যন্ত গর্ভবতী মহিলাদের উপর আমলার বিরূপ প্রভাবের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সেজন্য, যদি আপনি গর্ভবতী হন, আপনার রোজকার রুটিনে আমলা যোগ করার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে বলা হচ্ছে।
  • আমলার স্বাভাবিক ঠাণ্ডা করার প্রভাব সাধারণ সর্দিকাশিতে ভোগা ব্যক্তিদের এটা ব্যবহারের অনুপযোগী করে। 
Medicine NamePack SizePrice (Rs.)
Zandu Kesari JivanZandu Kesari Jivan296.0
Patanjali DashmularisthaPatanjali Dashmularistha120.0
Divya Madhunashini VatiDivya Madhunashini160.0
Baidyanath LohasavaBaidyanath Lohasava90.4
Baidyanath PirrhoidsBaidyanath Pirrhoids Tablet140.0
BonnisanBonnisan Drop36.0
Dabur ChyawanprakashDabur Chyawanprakash Sugarfree142.4
Divya Amalki RasayanDivya Amalki Rasayan52.0
Himalaya Amalaki TabletsHimalaya Amalaki Tablet120.0
Himalaya Anti Hair FallHimalaya Anti Hair Fall Oil144.0
Himalaya Dryness Defense Protein ShampooHimalaya Dryness Defense Protein Shampoo176.0
Hiowna Kidz TabletHiowna Chocolate Powder Chocolate180.0
Zandu Nityam ChurnaZandu Nityam Churna24.0
Divya Stri Rasayan VatiPatanjali Chakravadi Vati40.0
Zandu Sona Chandi Chyavanprash PlusZandu Sona Chandi Chyawanprash236.0
Zandu Vigorex SFZandu Vigorex Sf Capsule140.0
और पढ़ें ...

References

  1. UAB Department of Anthropology [Internet] Amla Fruit in India
  2. Manayath Damodaran, Kesavapillai Ramakrishnan Nair. A tannin from the Indian gooseberry (Phyllanthus emblica) with a protective action on ascorbic acid. Biochem J. 1936 Jun; 30(6): 1014–1020. PMID: 16746112
  3. Guy Drouin, Jean-Rémi Godin, Benoît Pagé. The Genetics of Vitamin C Loss in Vertebrates. Curr Genomics. 2011 Aug; 12(5): 371–378. PMID: 22294879
  4. Krishnaveni M1, Mirunalini S. Therapeutic potential of Phyllanthus emblica (amla): the ayurvedic wonder.. J Basic Clin Physiol Pharmacol. 2010;21(1):93-105. PMID: 20506691
  5. National Health Portal [Internet] India; Amla
ऐप पर पढ़ें